কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদ্রাসা আপনাকে স্বাগতম
ইতিহাস ও ঐতিহ্যে কাগতিয়া মাদরাসা
পল্লবঘন তরুরাজ্য বেষ্ঠিত সদা বহমান হালদা নদীর তীরে রাউজান উপজেলার শ্রেষ্ঠতম বিদ্যাপিঠ ‘কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম. এ মাদ্রাসা’ মূল ক্যাম্পাস এবং ‘মদিনাতুল আউলিয়া’ খ্যাত চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদস্থ কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ কমপ্লেক্স—এ সুবিশাল জায়গা নিয়ে উক্ত মাদরাসার চট্টগ্রাম মহানগর ক্যাম্পাস। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করার প্রত্যয়ে শিক্ষার সবোর্চ্চ মান ও পরিবেশ ধরে রেখে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই মাদরাসা শিক্ষার যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিস্তৃত ধরণীর বুকে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন। যা জানতে হলে ইতিহাসের পথ ধরে ফিরে যেতে হবে পিছনে। রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার পূতপবিত্র সাহচর্যজনিত নূর সাগরে আকন্ঠ নিমজ্জিত থাকতেন বিধায় সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমের কাছে জ্ঞানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিকসমূহ সদা উন্মুক্ত থাকত। ফলে তারা দাখিল, আলিম, ফাযিল, দাওরা প্রভৃতি শ্রেণীগত জ্ঞানানুশীলন থেকে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু ইসলামের সেই সোনালি যুগের অতিক্রান্তের মানেই হলো নূরে মোহাম্মদী রূপ মহাযুগ হতে ক্রমাগত দূরে সরে আসার অনিবার্য পরিণতির ভাগ্যবরণ।
পরবর্তী মানবজাতির জন্যে তাই আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে শ্রেণিগত বিন্যাসে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান যেমন অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল, তদ্রুপ পুস্তক নির্ভর জ্ঞানকে খন্ড খন্ড রূপে, বিভাজিত রূপে অর্জন করার জন্যে মাদ্রাসা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, শ্রেণী ও বিষয় ভিত্তিক পাঠ্যসূচী, মাদ্রাসা বোর্ড ইত্যাদি নব নব উদ্ভাবনীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। তাই দেখা যায়, উমাইয়া শাসন, আব্বাসীর যুগ এবং মোগল আমলেই প্রচুর সংখ্যক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ উপমহাদেশে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ৫৮৯ হিজরী ১১৯২ খৃষ্টাব্দে প্রথম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম শাসক শিহাব উদ্দীন মোহাম্মদ ঘোরী। তিনি মাদরাসাটি স্থাপন করেছিলেন দিল্লীতে। সুলতান কুতুব উদ্দীন আইবেক আজমীর শরীফে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১২০৬ থেকে ১২১২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে।
আমাদের বাংলাভাষীদের সামনে মাদরাসা বলতে এখনো অনেকের কাছে মক্তব ইত্যাদির চিত্রই ফুটে উঠে। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা যে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা সেটা অনেকেরই অজানা! তার কারণ হল, কুরআন, হাদিস, ফিক্হ শাস্ত্রের পাশে ইংরেজী, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি, ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সম্পৃক্ত করার পক্ষে বিপক্ষে থাকার বিষয়টা।
বিপক্ষে ছিল দেওবন্দ ভিত্তিক মাদরাসা গুলো; অপরপক্ষে দূর্বার আন্দোলনের ফসল আলীয়া নেছবের মাদরাসা গুলোতে জন্মলগ্ন হতেই সেই বিষয় গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়ে আসছিল। দিনের পর মাস, মাসের পর বছর পেরিয়ে যুগ, এভাবেই কালের পরিক্রমায় আলীয়া নেছবের প্রজ্জ্বলিত মশালের ধারাবাহিক এক উজ্জ্বল শিখা হয়ে নিভৃত পল্লীতে জ্বলে উঠে ‘কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম. এ মাদরাসা।’
উক্ত মাদরাসার বানীয়ে লাছানি, খলিলুল্লাহ, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (দ.) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্্হুর খুলুছিয়তের বদৌলতে যার সুখ্যাতি আজ বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও বিস্তৃত লাভ করেছে।
শৈশব সুষমা: জন্মলগ্নে কিন্তু কাগতিয়া মাদরাসা বর্তমান রূপলাবণ্য ছিলো না। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, আশেকে রাসূল ও বরণীয় সমাজ সংস্কারক হযরতুলহাজ¦ আল্লামা রুহুল আমিন ছাহেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কতৃর্ক ১৯৩২ ইংরেজীতে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি হাঁটি হাঁটি পা—পা করে তার যাত্রা শুরু করে। ১৯৪৪ ইংরেজীতে এসে মাদরাসাটি আলিম স্তরে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা এই মনীষী জীবদ্দশায় স্বপ্নযোগে ‘জিয়ারতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লাভ করেছিলেন ৪১ বার। যা তার ওফাতের পর বিশ্বস্ত জনের মাধ্যমে জানা যায়। ওফাতের পূর্বে এ তথ্য প্রকাশিত ছিল নিষিদ্ধ। অত্র মাদরাসা সম্পর্কে এই জ্ঞানতাপসের অকপট ও সহজ সরল, অথচ তত্ত্বপূর্ণ উক্তি ছিল — “যার ঘর তাঁর হাতে সঁপে দিয়ে এসেছি।”
কৈশোর কিশলয়: হযরত রুহুল আমিন ছাহেব রাহ. এর জামাতা হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্্হুর এর মোবারক হাতে ১৯৫৭ সালে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার পর কাগতিয়া মাদরাসার আমূল পরিবর্তন শুরু হয়। ১৯৬৬ সালে ফাযিল স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে এটি নতুন যুগে প্রবেশ করে।
তিনি সুউচ্চ মাদরাসা ভবন নির্মাণ করে, অর্থায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করে, কর্মতৎপরতা ও আন্তরিকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মূলত মাদরাসার উন্নতির মূলভিত্তি ছিল সততা, সুন্নতের অনুসরণ, খেদমতের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ঈমানী দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি নিজেই বলতেন — ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, কাগতিয়া মাদরাসার খেদমতের মাঝেই পেয়েছি।’
উন্নতির অগ্রযাত্রা: ১৯৯৭ সালে অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হন হযরত মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। তাঁর নেতৃত্বে কামিল স্বীকৃতি, অনার্স কোর্স, পৃথক মহিলা ভবন, কম্পিউটার ল্যাব, আবাসিক হল, লাইব্রেরি, অডিটোরিয়ামসহ একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়।
তিনি চট্টগ্রাম মহানগরে একটি নতুন ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করেন এবং দক্ষ শিক্ষক, অধ্যাপক ও মনিটরিং সেল গঠন করে শিক্ষার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন।
অবদান: এই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত রয়েছেন। অনেকে উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশে অধ্যয়ন করছেন। কেউ কেউ অধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস, মুফতি হিসেবে দ্বীনের খেদমত করে যাচ্ছেন।
উপসংহার: কাগতিয়া মাদরাসা সেই জায়গা, যেখানে এক শিক্ষার্থী জাহেরী ও বাতেনী উভয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্্হুর ফয়েজে শিক্ষার্থীরা নূরানী জ্ঞান ও আদর্শ জীবনধারায় আলোকিত হয়। ইনশাআল্লাহ।
নোটিশ বোর্ড
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
| Subject | Date Published | Link |
|---|---|---|
| নোটিশ বোর্ড | September 7, 2023 | view |
